কয়েকজনকে ধরতে অভিযান চলছে

চবিতে ছিনতাইয়ে জড়িত বহিরাগত ছয়টি চক্র

শহিদুল সুমনঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ৬টি চক্র। এই চক্রগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ ইনস্টিটিউট, প্রীতিলতা হলের মোড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও তার আশে পাশের এলাকায় র্দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই করে আসছে। তবে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বলেছেন তাদের কাছে এসব চক্রের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত চক্রের সদস্যরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত। অনুসন্ধানে এই ৬ চক্রের নাম উঠে এসেছে। প্রতিটি চক্রে ২ থেকে ৫ জন করে সদস্য আছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বনবিদ্যা ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের আশেপাশে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত খাইরুল, বাবুসহ আরো তিন জনের একটি চক্র। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ছেলে বলে জানা যায়। একই এলাকায় ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ইদ্রিস ও তার সহয়োগীরা। ইদ্রিসের বাড়িও বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন ছড়ার অপর পাড়ে। তার বাবাও এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতেন। এছাড়া প্রীতিলতা হলের মোড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ছিনতাই করে হারুন ও তার সহযোগীরা। তার বাড়িও বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন ছড়ার অপর পাড়ে দরবার এলাকায়। দীর্ঘদেহী এই মানুষটি এলাকায় মইষ্যা হারুন বলে জানে সবাই। এদিকে প্রীতিলতা হলের মোড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ছিনতাই করে সাহাবুদ্দিন ও হাসেমের আলাদা দুটি চক্র। এদের মধ্যে সাহাবুদ্দিনের বাড়ি রেলক্রসিং এলাকায় এবং হাসেম পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক। এছাড়া মহসিন, রায়হান, শিমুল এই তিনজনও একই এলাকাতে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। এদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর ছেলে রয়েছে। এ চক্রগুলো এইসব এলাকায় প্রায় অর্ধশত ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত বলে জানান এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই করে আসলেও তাদেরকে ধরার ব্যাপারে প্রশাসনের তেমন কার্যত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু গত রবিবার বিকেলে বনবিদ্যা ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা প্রাচীরের পাশে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দোস্ত মোহাম্মদ ও তার ছয় বন্ধু। এই সময় ছিনতাইকারীরা তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হাটহাজারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছিনতাইয়ের শিকার শিক্ষার্থীরা। এই ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ছিল ইদ্রিস ও তার সহয়োগীরা। এই ঘটনার পর থেকে ইদ্রিসকে ধরার জন্য বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তাকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া এ বছরের ৮ এপ্রিল রাত আটটায় ফরেস্ট্রি এলাকায় গ্যারেজের পাশে ছিনতাইয়ে শিকার হয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রথম শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী ও তার বন্ধুরা। এই সময় ছুরি ধরে তাদের কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ছিনতায়কারীদের ছুরির আঘাতে সামান্য আহত হয় রাব্বানী। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় মহসিন, রায়হান, শিমুলের নামে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগটি করেন তিনি।

ছিনতাইয়ের শিকার যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দোস্ত মোহাম্মদ বলেন, ‘যেহেতু ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাই যতদ্রুত সম্ভব তাকে আটক করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিনতাই অনেক কমে আসবে। শনাক্ত হওয়ার পারও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে পরবর্তীতে ছিনতাইকারীরা আরো উৎসাহিত হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা একটি সংঘবদ্ধ এটি চক্র। তাই তাদের সবাইকে আটক করা হলে অন্য চক্রদের আটক করা সম্ভব হবে।’

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান আকতার বলেন, ‘এই সব চক্রের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। সম্প্রতি ফরেস্ট্রি এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমরা ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করেছি। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।’

এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপন বলেন, বনবিদ্যা ও পরিবেশ ইনস্টিটিউট, প্রীতিলতা হলের মোড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় কয়েকটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে কয়টা চক্র সেখানে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত তা আমরা জানি না। তারপরও আমরা বিষয়টি দেখছি। গত রোববার বনবিদ্যা ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীর সংলগ্নে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরতে পারলে সবগুলো চক্রকেই আটক করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, ছিনতাইয়ের যেসব ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকটি স্থানে যাতায়াতে নিষিদ্ধ করেছে। এইসব স্থানে ছিনতাই হলে অনেক সময় আমরা অভিযোগ পাই না। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তাছাড়া বেড়াতে গিয়ে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা ছাড়িয়ে যায়। সেক্ষেত্রে সেখানে ছিনতাই হলে আমাদের কি করার আছে ?