চবিতে নিরবিচ্ছিন বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

cu-logoনিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যাক্ষ কক্ষে ভাংচুর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গতকাল শনিবার হাটহাজারী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সকাল আটটা থেকে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখে। পূর্বঘোষিত নোটিশ অনুযায়ী বিকাল চারটার মধ্যে বিদ্যূৎ সরবরাহ সচল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এইদিন দুপুরে বৃষ্টি হওয়ায় সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই সংযোগটি সচল হতে রাত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ আসার পাঁচ মিনিটের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাংলোর পেছনে একটি তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে আবারো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ফলে সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকটসহ নানা ভোগান্তিতে পড়েন হলের শিক্ষার্থীরা। গোসল, টয়লেটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পানি না পাওয়ায় রাতের দিকে শাহজালার ও শাহ আমানতসহ কয়েকটি হলের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মিছিল বের করেন। এই সময় তারা ক্যাম্পাসে নিরবিচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুতের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।

জানতে চাইলে শাহ আমানত ও শাহ জালাল হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, “হলে অনেকের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশুনা করতে পারছে না কেউ। তাছাড়া সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় চরম পানির সংকট দেখা দিয়েছে হলে। গোসল তো দূরে থাক পানির অভাবে টয়লেটেও যেতে পারছিনা।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, “হাটহাজারী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখে। রাতে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ আসলে ভিসি বাংলোর পেছনে একটি তার ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে সংযোগ দিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “সারাদিন ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ ও পানি ছিল না। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ ও পানির জন্য মিছিল করার চেষ্টা করেছে। পরে আমরা তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে হলে পাঠিয়ে দেয়।”