চবির চাঁদপুর জেলা স্টুডেন্টস’ এসোসিয়েশনের নবীন বরণ এবং প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত

তারেক মাহমুদ সুজনঃ

সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচরণ করা মুখ গুলোর। নবীনদের উচ্ছ্বাসিত আগমনে বিদায় নেয় প্রবীণরা। নবীনরা যখন হেসে হেসে আনন্দময় উজ্জ্বল অনুভূতি নিয়ে ক্যাম্পাস জীবনে অনুপ্রবেশ করে ঠিক তখনই একঝাঁক প্রবীণ রিক্ত যন্ত্রনাময় আবেগ নিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রকৃতির নিয়মে নিজ প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে চবির ‘চাঁদপুর জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন’ এর উদ্যোগে নবীন বরণ এবং প্রবীণ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বুধবার বেলা ১১.৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) কার্যলয়ে ওই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়।

এসোসিয়েশনেরর সভাপতি মাহমুদা আক্তার লিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, সাবেক সদস্য আবুল কাশেম হিমেল, শরিফুদ্দিন রাশেদ, গুলে জান্নাত সুমী, এম এ আলম সুমন এবং সদ্য বিদায়ী সভাপতি দিদারুল আলম সজল। এ সময় এসোসিয়েশনটির প্রতিষ্ঠাতাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আরিফুল ইসলাম সুজন বলেন,‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তবে ছাত্রজীবনে কিছু বিরুপ পরিস্থিতির কারণে একটা এসোসিয়েশন করতে পরিনি। কিন্তু হৃদয় থেকে চেয়েছি একটা জেলা এসোসিয়েশন হোক। আমি ২০০৪ সালে যখন ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছি তখন কল্পনাও করতে পারিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হবে। কেন যেন সব কিছু নিজের অনেক প্রতিকূল মনে হতো। তার কারণ আমার কোন বড় ভাই বা পরিচিত কেউ ছিল না যিনি একটু মানসিক অনুপ্রেরনা দিয়ে শক্তি সঞ্চার করতে সাহায্য করবেন। কিন্তু এখন আর কাউকে এসে নানান বিরুপ  চিন্তা করতে হবে না। তার কারণ এই এসোসিয়েশন।”

এসোসিয়েশনের সদস্য বিশেষ করে নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তরুণরা হচ্ছে সবুজ প্রাণবন্ত ছটফটে জীবন। আর তারুণ্যের মহা প্লাবন দিয়েই তাদেরকে বীরের মতো এগিয়ে যেতে হবে। নিজ যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তোমাদের নিজ নিজ পছন্দের স্থানে যেতে হবে। তোমাদের চিন্তাজগত সুবিস্তৃত হতে হবে।  বার বার নিজেকে প্রশ্ন করবে তুমি কি হতে চাও, এই সমাজের জন্য তুমি কি করতে চাও। নিজেকে কিভাবে বা কোন কর্মের মাধ্যমে চির অস্তিত্ববান মানুষ রুপে প্রতিষ্ঠিত করতে চাও তা নির্ণয় করবে এবং সেই লক্ষে এগিয়ে যাবে।’

বর্তমান তরুণদের পিঁছিয়ে টেনে ধরা নানাবিধ  ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করে তিনি আরো বলেন,’ এখনকার যুগের ছেলে মেয়েরা অতি মাত্রায় ভার্চুয়াল নির্ভর করে পড়েছে। পশ্চিমারা আমাদের সতন্ত্র সংস্কৃতি ও সুস্থ মূল্যবোধ ধ্বংস করার লক্ষে একের পর এক অভিনব কৌশল প্রয়োগ করে যাচ্ছে। আর আমরাও তাদের কূট কৌশলে বাহবা দিয়ে নিজের সর্বস্ব হারাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।”নবীনদের অতি মাত্রায় ভার্চুয়াল নির্ভর না হয়ে তাদেরকে ঘিরে মা-বাবার স্বপ্নের কথা চিন্তা করতে বলেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আবেগ নিয়ে থাকার স্থান নেই। রঙিন অনেক কিছুই সামনে পড়বে তবে তাতে ডুবে যাওয়া যাবে না। তাহলে নিজ জীবনটাই লক্ষবিহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে ডুবে যাবে। ‘

সুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রবীণ পরিচয়ে এসোসিয়েশটির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর ফিরোজ আবেগময় কণ্ঠে বলেন, ‘ বিদায় শব্দটা কেন যেন শুনতে একটুও ইচ্ছা করে না। একরকম কষ্ট হয় নিজেকে বিদায়ী কল্পনা করতে। আমরা তোমাদের থেকে বিদায় নিচ্ছি না, আর তা সম্ভবও না। শারীরিক ভাবে  সরে গেলেও সবকিছু পড়ে থাকবে এখানেই।’ তোমাদের মাঝেই আমাদের অস্তিত্ব বিরাজ করবে ক্যাম্পাসের প্রতিটা কোণায়।

পরে তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘তোমাদেরকে ভাল মানুষ হতে হবে। এক ঘন্টার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বিভিন্ন বিভাগে পড়ার মাধ্যমে বড় হওয়া যায় না। তোমরা নিজে কি হবে তা তোমাদেরকেই ঠিক করতে হবে। কারণ কোন পিতা-মাতাও জানে না তার সন্তান কি হবে।’ তোমাদেরকে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। তবে প্রাপ্তির আশাটা অনেক কম করতে হবে তাহলেই নিজ আশানুরূপ সফলতা ধরা দিবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মানুষের ভিতরই প্রতিভা আছে তবে তা উপযুক্ত পরিবেশ বা চর্চার অভাবে প্রকাশ পায় না। এসোসিয়েশন সেটা শিখায়। নিজ প্রতিভা প্রকাশ করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেরে।কিভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে তাও এসোসিয়েশন শিখিয়ে থাকে বলে তিনি তার বিদায়ী বক্তব্য শেষ করেন।

কামরুন নাহার কলি এবং আবু সাইদ সৈকতের মনোমুগ্ধকর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুদ্দিন সোহান মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বিল্লাল, প্রচার সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সদস্য কাজী ওয়াহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের নবীন প্রবীন সদস্যরা।