চবি ল্যাবরেটরি স্কুলে দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মেলার উদ্বোধন করেন।

এবারের মেলায়  চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজসহ মোট তিনটি স্কুল এন্ড কলেজের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যেখানে ২৬টি স্টল স্থান পায়। স্টলগুলোতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বিচারকরা তিনটি প্রজেক্টকে সেরা নির্বাচন করেন। তাছাড়া আরো তিনটি প্রজেক্টকে বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয়।

এদের মধ্যে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মূসা আহমেদ, মাসফিকুর রহমান, নাভিদ হাসান, আরমান উদ্দিন মোস্তফা মাহমুদ, শামিম, সাদমানের আবহাওয়া কেন্দ্র নামক প্রজেক্টটি প্রথম পুরষ্কার অর্জন করে।

২য় পুরষ্কার অর্জন করে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভির, আনিস, মিরাজ, আকিব, তোহার ভবনের নিরাপত্তা পদ্ধতি নামক প্রজেক্টটি। তারা লেজারের মাধ্যমে ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রজেক্টের মাধ্যমে তুলে ধরে।

জোবরা পি পি বিদ্যালয় এন্ড কলেজ ৩য় পুরষ্কার অর্জন করে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মাহফুজ, জয় বড়–য়া ও রাফির ওয়ার্কিং রোবট, ওয়াটার এক্সবেটর, ইলোকট্রনিক ড্রয়িং পেন প্রজেক্ট নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের।

এছাড়া আরো তিনটি প্রজেক্টকে বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয়। প্রজেক্ট গুলো হল ক্যান্টরমেন্ট বোর্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের ট্রি শিফটটিং এন্ড হাইডোলিক মেশিন, বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল টাওয়ার এবং একই প্রতিষ্ঠানের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকারণ ও পরিচ্ছন্ন নগরী প্রজেক্টটি। তাছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে দেওয়া হবে সনদ পত্র।

বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোশারেফ হোসেন ভূইয়া এবং পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী।

এর আগে ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ গভার্ণিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. জসীমউদ্দিনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার বক্তব্যে বিজ্ঞান মেলার আয়োজকবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, “বিজ্ঞান ছাড়া কোনো শিক্ষাকেই এখন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা বলে বিবেচিত করা হয় না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় ও বিস্ময়কর অগ্রগতির এ যুগে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে সকল ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞান এবং এর ইতিবাচক প্রয়োগ একান্ত অপরিহার্য। তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আধুনিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।”

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী “সংস্কৃতি-ক্রীড়াকে যুক্ত করে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক গুণগত শিক্ষা’ শিরোনামে যে শিক্ষাদর্শন জাতিকে উপহার দিয়েছেন, এর সফল বাস্তবায়নে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে এবং সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হবে।”

উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হওয়ার আহবান জানান। পরে উপাচার্য ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন,“বই পড়ে ক্লাসে প্রথম হওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃত মেধার বিকাশ ঘটে না। ক্লাসে প্রথম হলেই শিক্ষার্থীর মেধার মূল্যায়ন হয় না। বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার যাচাই হয়।”

তিনি আরো বলেন, ক্লাসে প্রথম হওয়ার প্রতিতোগিতার বাইরে গিয়ে প্রকৃত মেধার প্রতিযোগিতা তৈরি করা আমাদের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে এটিকে আরো বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করবো।”

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের শিক্ষক সামিনা চেীধুরী। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী ও আইইআর-এর পরিচালক জনাব কিরণ চন্দ্র দেব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ফজলুল হক।