চলন্ত শাটল ট্রেনে সাত মাসে চার ছিনতাই

শহিদুল সুমনঃ  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) চলন্ত শাটল ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সাত মাসে অন্তত ৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যার বেশির ভাগই   ক্যান্টনম্যান্ট ও অক্সিজেন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ট্রেনের দরজায় বসার ফলে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছেন শিক্ষার্থীদের দরজায় বসার প্রবণতায় বাড়ছে ছিনতাইয়ের মত ঘটনা।

জানা যায়, গত সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়গামী পৌনে আটটার শাটল ট্রেনেটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন আহমেদ নিশি। দূর্বৃত্তদের ছোড়া অস্ত্রের আঘাতে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে তার ডান পায়ে ৩০টি সেলাই করতে হয়। এর আগে গত ৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে আসা শাটল ট্রেনটি ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের আগে আমানবাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে গুরুতর জখম হয় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম সুলতানা লিপি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে আসা বিকেল ৪টার ট্রেনের দরজায় বসে ফিরছিলেন রাজনীতি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের খালেদা আক্তার। ট্রেনটি ক্যান্টনম্যান্ট এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগ ধরে টান দেয়। ব্যাগটি শক্ত করে ধরে রাখায় ঐ শিক্ষার্থীর ট্রেন থেকে পড়ে যায়। পরে ল্যাপটপ সহ তার সাথে থাকা মোবাইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিনতাইকারীরা হাতিয়ে নেয়। শুধু দিনের বেলাতে নয় রাতেও ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে যাওয়া রাতের শাটল ট্রেনে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসানসহ ৫ জন শিক্ষার্থী বহিরাগতের হাতে ডাকাতির শিকার হন। তাদেরকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। এসময় সাথে থাকা মোবাইল-মানিব্যাগ সহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয় তারা। পরে ট্রেনটি নগরীর মুরাদপুর এলাকায় গতি থামালে ডাকাতরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে তিনটি ঘটনাই ঘটেছে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শাটলের দরজায় বসা শিক্ষার্থীদের সাথে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে শিক্ষার্থীরা সচেতন হয়ে দরজায় না বসলে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসবে।

এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চেীধুরী বলেন,“শাটল ট্রেনের দরজায় বসা নিষেধ। তারপরও শিক্ষার্থীরা শাটলের দরজায় বসে যাতায়াত করছে। যার ফলে ছিনতাইকারীরা সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্তীদের আক্রমণ করতে।”

তিনি আরো বলেন,“শুধু ছিনতাই নয় দরজায় বসার কারনে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দরজায় বসার প্রবণতার কারণে ট্রেনে উঠা নামায় অন্য শিক্ষার্থীদের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যদি একটু সচেতন হয় তবে এমন ঘটনা কমে আসবে। আমাদের পরামর্শ কেউ যেন দরজায় বসে যাতায়াত না করে।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবী শাটলের পর্যাপ্ত বগি না থাকায় দরজায় বসে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি শাটলের বগি বৃদ্ধি করে তবে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরজায় বসে যাতায়াত করতে হবে না বলে জানান তারা।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন,“দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বড়লেও বাড়েনি বগির সংখ্যা। প্রতিটি বগিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে। ট্রেনের ভিতর জায়গা না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে দরজায় ও ছাদে বসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে ঘটছে নানা দূর্ঘটনা।”
এতসব ঘটনার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ পুলিশ প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পরে নি। তবে বছরের শুরুতে ৬ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ছিনতাইয়ের অভিযোগে বায়েজিদ থানা পুলিশ চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো মো.সাইফুল ইসলাম তাবা (২৮), মোহাম্মদ ফরহাদ (২২), মোহাম্মদ বেলাল (২২) এবং মোহাম্মদ সুমনকে (২৬) আটক করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে এরকম ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। এই সময় তাদের কাছ থেকে ছুরি ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়। পুলিশের কাছে তারা স্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন যখন রেলক্রসিংয়ে ধীরে চলে তখন মেয়েদের কাঁধে থাকা ব্যাগ ও শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এরপর ছয় মাসে ৪টি ছিনতায়ের ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারণে কোন রকম উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি নীতি নির্ধারকদের।