চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় এক ছাত্রলীগ কর্মী সংগঠন থেকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ছাত্রফ্রন্টের এক নেতাকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।  বুধবার দুপুরে কলা অনুষদ ঝুপড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে সমায়িক বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে।

মরাধরের শিকার ফজলে রাব্বী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক। তাকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ইংরেজি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিমন শিকদার। বুধবার রিমন কলা অনুষদের ঝুপড়িতে এসে ঐ ছাত্রীকে তার সাথে যেতে বলে। কিন্তু সে তার সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বন্ধুদের সাথে বসে থাকে। একপর্যায়ে রিমন জোরপূর্বক তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ফজলে রাব্বীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় রিমনের। পরে রিমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ৮/১০ জন কর্মী রাব্বীকে মারধর করে। পরবর্তীতে রাব্বীর বন্ধুরা তাকে (রাব্বি) উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। রিমন বিশ্ববিদ্যালয়ের চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুর অনুসারী বলে জানা যায়।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিমন শিকদারকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রলীগ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ছাত্রলীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে মারধরের শিকার ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা একসাথে ঝুপড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ রিমন এসে ওই মেয়েকে তার সাথে যেতে বলে। কিন্তু মেয়েটি তার সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানলে তাকে জোরপূর্বক হাতে ধরে টেনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে রিমন ও তার সহযোগীরা মারধর করে।

তিনি আরো বলেন,“এর আগেও রিমন ওই ছাত্রীকে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে কিছুক্ষন আটকে রাখে। আমি বিষয়টি প্রক্টরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।”

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমার সাথে রিমনের মাঝে মাঝে কথা হতো। আজ (বুধবার) সে আমাকে তার সাথে ঘুরতে যেতে বলে। আমি যেতে রাজি হইনি বলে সে আমার হাত ধরে জোর করে নিয়ে যেতে চায়। বিষয়টি রাব্বি ভাইকে জানালে তিনি প্রতিবাদ করে। এসময় রিমন ও তার সহযোগীরা রাব্বী ভাইকে মারধর করে। বিষয়টি আমি প্রক্টরকে জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলমগীর টিপু বলেন, “কোন দূষ্কৃতিকারীর স্থান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে হবে না। অতীতেও আমরা কোন অন্যায়কারীকে ছাড় দেইনি। ভবিষ্যতেও দেয়া হবে না।”

তিনি আরো বলেন, সংগঠন বহির্ভূত কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় বুধবার ছাত্রলীগ কর্মী ইংরেজী বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিমন শিকদারকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোর্শেদ রিপন বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। যাচাই করে দোষী যেই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”