চবির ব্যয় সংকোচনে তাগিদ দিলেন সিনেটররা

শহিদুল সুমন:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচন করার পরামর্শ দেন বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্যরা। শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে বাজেট পরবর্তী আলোচনায় সিনেটরবৃন্দ এই পরামর্শ দেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের  (ইউজিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ভূইঁয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বরাদ্দ থেকে ব্যয় মিঠাতে হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষকে কিভাবে ব্যয় সংকোচন করা যায় সে ব্যবস্থা চিন্তা করতে হবে। যদি ব্যয় সংকোচনের জন্য মাস্টারোল ও এডহক ভিত্তিকে সকল নিয়োগ বন্ধ করতে হয় তাও করা দরকার।

এ সময় তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার একটি মৌলিক স্থান। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে গবেষণা কাজকে আরো প্রসারিত করতে হবে। শুধু বিভাগ বাড়ালে ও বেশি বেশি ছাত্র ভর্তি করালে হবে না শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রতি নজর দিতে হবে। জঙ্গিবাদ যাতে মাথা চারা দিয়ে উঠতে না পারে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

সভায় ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি দান অনুদানে চলে না। দান অনুদাননির্ভর কোন স্বাধীনসত্ত্বা প্রকাশ ঘটানো যায় না। সরকারি অর্থের মুখাপেক্ষী না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল আইডিয়ার মাধ্যমে অর্থের সংস্থান করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি অর্থ সংস্থানের ফর্মূলা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালেয় ৫ হাজার নারিকেল গাছ সৃজনের পরামর্শ দেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পতিত জমি রয়েছে। যেখানে প্রচুর পরিমাণ নারিকেল গাছ লাগানো সম্ভব। বর্তমানে উন্নতজাতের নারিকেল গাছ রয়েছে যার উচ্চতা আড়াই ফুট হলে এবং এক বছরের মধ্যে ফল দিতে সক্ষম। প্রতিবছর এসব নারিকেল গাছের নারিকেল বিক্রি বাবদ যে অর্থ আসবে তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন ছোটখাট খাতের ব্যয় মেঠানো সম্ভব।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী মনোযাগ সহকারে তাদের পরামর্শ শুনেন।

এর আগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সভাকক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।