প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা


আশিক মুক্তাদির:
‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাটাতে হয় ক্লাস কিংবা পরীক্ষা দিয়ে। এজন্য ঘুম থেকে উঠতে হয় তাড়াতাড়ি। সকালের নাস্তা বাহিরে করতে হয়। আর মাঝে মাঝে দুপুরেও খেতে হয় বাহিরে। রাতে বাসায় ফিরে বুয়ার হাতের রান্না দেখলে মনে পড়ে মায়ের কথা। কত দিন খাওয়া হয়না মায়ের হাতের রান্না।’

কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মুনযির মোহাম্মদ সাদ।

তিনি বলেন, ক্লাস, টিউটরিয়াল, প্রেজেন্টেশনের কারণে পুরো বছর দৌড়ের উপর থাকতে হয়। এসবের মাঝে চালিয়ে যেতে হয় টিউশনি। সবমিলিয়ে জীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ। এরমধ্যে যদি এসে পড়ে ঈদের বন্ধ। তাহলে খুশির আর অন্ত থাকে না। কিন্তু ভিতরটা কেঁপে উঠে প্রিয় ক্যাম্পাসকে ছেড়ে যাওয়ার কথা মনে পড়লে। বন্ধু, আড্ডা, প্রিয় ক্যাম্পাস, শাটল ট্রেনকে খুব মিস করবো ছুটির দিনগুলোতে।’

রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ক্যাম্পাস বন্ধ ১ জুন থেকে। প্রায় ৩৮ দিন বন্ধ থাকার পর খুলবে আগামী ৮ জুলাই। এর ভিতরে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কয়েকদিন পর একদম ফাঁকা হয়ে যাবে ক্যাম্পাস।

ঈদের ছুটিতে বাড়ির ফেরার আনন্দ নিয়ে ফাইন্যান্স ১ম বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা পপি জানান, ‘একসময় এ ক্যাম্পাসকে ঘিরে কত স্বপ্ন বুনতাম। আর এখন ক্যাম্পাসই আমার সর্বোচ্চ ব্যস্ততা। তাই তো ক্লাস-পরীক্ষা, টিউশনির ব্যস্ততার কারণে বাড়ি ফেরা হয়না ঠিকমতো। তবে দীর্ঘদিন ব্যস্ততার পর রমজান ও ঈদের লম্বা ছুটির কথা শুনে আনন্দ আত্মহারা। এবার হয়তো দেখা পাবো প্রিয় মুখগুলো। ভাবতেই খুশি লাগছে অনেকদিন পর বাড়ি ফিরে যাব। তাও অনেক দিনের জন্য। এতদিন না দেখতে দেখতে সবার প্রতি ভালোবাসা যেন আরো বেড়ে গেছে। ভেতরে একটা টান অনুভব হচ্ছে। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই থাকবে। আবারও আড্ডা জমবে বাসায় কিংবা বাহিরে বন্ধুদের সাথে।’

তবে ছুটির কথা শুনে খুশির পালে হাওয়া লাগেনি পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলমের। বন্ধ উপলক্ষে বন্ধুরা বাড়ি চলে গেলেও টিউশনির জন্য আশরাফুলকে প্রায় ২০ রমজান পর্যন্ত থাকতে হবে ক্যাম্পাস। আশরাফুল বলেন, ‘টিউশনি থাকায় বাড়ি ফেরা হয়নি। রোযা রেখে প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসা যাওয়া করতে হয়। খেতে হয় হল কিংবা মেসের খাবার।’