ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং করতে হলে থাকা চাই ধৈর্য্য ও সময়- ডলি

dole
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সম্মাননা স্মারক নিচ্ছেন তৌহিদা খানম ডলি

ইমরান হোসাইনঃ

তৌহিদা খানম ডলি। ছোট বেলা থেকেই প্রবল ইচ্ছে ছিল বিচারক হওয়ার। সেই ইচ্ছে থেকেই নবম শ্রেণীতে মানবিক বিভাগে পড়েন। ২০০৬ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এস. এস. সি. পাশ করার পর হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে (চট্টগ্রাম) ভর্তি হন একই বিভাগে। ২০০৮ সালে গৌরবের সাথে এইচ.এস.সি পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। পরে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান স্বপ্নের সেই বিষয়ে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে আইন বিভাগে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি। ভর্তি করে দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) বিবিএতে। পরে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে বিবিএ এবং ২০১৪ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেন।  কিন্তু তিনি থেমে যাননি স্বপ্নের আইন বিভাগে পড়া থেকে।

২০০৮ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং। তখনও ভাল ভাবে এই বিষয়ে অনেকেইর ধারনাও ছিল না। শুধু মাত্র নিজের ইচ্ছা শক্তি থেকেই তিনি এই কাজের সাথে যুক্ত হন। এই কাজে যুক্ত হওয়ার পর থেকে স্বপ্নের আইন বিভাগে পড়ে বিচারক হওয়ার স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রাখলেন।    ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এর কাজ শুরু করার পর থেকেই তিনি একের পর এক সাফল্য পেতে থাকেন। সাফল্যের স্বৃকৃতীসরূপ পেতে থাকেন দেশে বিদেশে অনলাইন সেরা মার্কেটার অনেক পুরস্কার। পরে ২০১৪ সাথে নিজের ফ্রিল্যান্সিং এর টাকায় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্নের আইন বিভাগে স্নাতক পাশ করেন।

অনলাইন আউটসোর্সিং এর জন্য USA Mozcon digital marketing conference -২০১৬ তে সেরা ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে mozcon এর আমন্ত্রণে যোগ দেন। এবছরের জানুয়ারী মাসে অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে সুইডেনেও একটা ইন্টারন্যাশনাল সেমিনারে যোগ দেন। বর্তমানে দেশে বসে আমেরিকার বিল গেটস এর microsoft company ta microsoft digital business strategic and planner হিসেবে ও কাজ করছেন ।

অনলাইনে এক লক্ষ ডলারের বেশি আয় করা এবং নিজের চেষ্টায় পড়াশুনা করার জন্য এই মাসের ৯ তারিখ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে একটি সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সেই সাথে তৌহিদা খানম ডলিকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী জার্মানিতে সফর প্রধানমন্ত্রী সঙ্গী করছেন।

dole-1

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং সর্ম্পকে তৌহিদা খানম ডলি জানান, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং করতে হলে অবশ্যই ধৈর্য্য ও সময় নিয়ে কাজ করতে হবে। কোন বিষয়টি প্রথমে শিখবো তার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এই বিষয়ের উপর দৈনিক ৫-৬ ঘন্টা সময় দেয় তাহলে ওই বিষযটি আয়ত্বে চলে আসবে। অনেকে মনে করেন, ইংরেজি না জানলে ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এর কাজ করা যায়না। সেজন্য অনেকেই এ পথে আসতে চাচ্ছেন না। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি ধারণা। তবে ইংরেজি জানা থাকলে তা কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

বেকারদের উদ্দেশ্য এই দেশ সেরা ফ্রিল্যান্সার বলেন, অনেকে চাকরির পেছনে ছুটে অনেক সময় ব্যয় করছেন। তারপরেও নিদিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। চাকরি পেছনে না ছুটে যদি একজন ব্যক্তি ধৈর্য্য ধরে দৈনিক  ৪-৫ ঘন্টা  ফ্রিল্যান্সিং এর উপর কাজ করে তাহলে অবশ্যই তার  সফলতা আসবে। আর ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে চাই নিজের আগ্রহ।

তরুণ এই ফ্রিল্যান্সার বলেন, একজন ব্যক্তি নিয়মিত ৫-৬ ঘন্টা  কাজ করে তাহলে মাসিক এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতে পারবে। কাজের পরিধি আর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধি হলে আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।  আমি যখন অনলাইনে আয় করা শুরু করেছিলাম তখন আয়ের বেশির ভাগই শিখার পিছনে খরচ করেছিলাম। যারা আউটসোর্সিং করতে চায় তাদের অনেক ধৈর্য্য এবং সময় নিয়ে অনলাইন মার্কেট প্লেসে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সেই সাথে তাদের কত টাকা আয় করবে এই হিসাবটা না করে কিভাবে কাজ আয়ত্ত করবে, প্রতিদিন কত সময় ব্যয় করবে সে চিন্তা করতে হবে।

আমি ধৈর্য্য ও সময় নিয়ে কাজ করতে পেরেছি বলেই আজ সাফল্যের দরজায় পৌঁছাতে পেরেছি। সেই সাথে এখন মাসিক প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ডলার আয় করতে পারছি। তাই ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এ  ধৈর্য্য ও সময় নিয়ে কাজ করলে সফলতা অবশ্যই আসবে।