শাটল ট্রেনে ছিনতাই এর কবলে চবি শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চলন্ত শাটল ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে এক শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম নগরীর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থী নওরিন আহমেদ নিশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রানীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে সকাল সাতটা পঞ্চাশ মিনিটি ছেড়ে আসা শাটল ট্রেনে বন্ধু সাথে ক্যাম্পসে যাচ্ছিলেন নিশি। সে ট্রেনের সিঁড়িতে বসে ছিলেন। হাতে ব্যাগ ও কানে হ্যাডফোন দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ব্যস্থ ছিলেন । এ সময় ট্রেনটি চট্টগ্রাম সেনানিবাস এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে ধারালো অস্ত্রে আঘাত করলে তার ডান পায়ে আঘাত পায়। বোরকা পড়ায় থাকায় আশেপাশের কাউকে বিষয়টি কিছু বুঝতে দেয়নি। এরপর ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তার বন্ধু ও ট্রেনের প্রত্যক্ষদর্শীরা বিয়টি দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে রোরকা খুলে সেখানে ক্ষত দেখতে পায়। পরে বন্ধুদের সহায়তায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল আফিসার মো. আবু তৈয়ব তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তিনি চমেকে ভর্তি না হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা দেখে আত্নীয়-স্বজন অনুমতিতে নিয়ে চিকিৎসা দেন। তার ডান পায়ে ৩০ টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল আফিসার মো. আবু তৈয়ব বলেন, “আহত অবস্থায় এক নারী শিক্ষার্থী সকালে চিকিৎসা নিতে আসে। তিনি জানান তিনি ব্যাথা পেয়েছেন। তবে কিভাবে ব্যাথা পেয়েছেন জানে না। তার অবস্থা গুরুতর দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠিয়ে দেই। তার ডান পায়ের অনেকখানি অংশে চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। শরীরের অন্য স্থান থেকে তা পূরণ করতে হবে।”

জেনেরাল হাসপাতালের চিকিৎকসরা জানায়,“আঘাতে ডান হাটুতে চামড়া ও মাংস উঠে যাওয়ায় শরীরের বিকল্প অংশ থেকে চামড়া ও মাংস এনে তা পূরণ করা হয়েছে। এজন্য ৩০ টির মত সেলাই দেওয়া হয়েছে।”

নিশির আত্নীয় শায়েদ আয়মান জানান, শাটল ট্রেনে ছিনতাইকারীর ছোঁড়া অস্ত্রের আঘাতে নিশির ডান পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। প্রথমে সে ভয়ে কাউকে কিছু না বললেও পরে তা স্বীকার করে । বর্তামানে সে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন,“এই ব্যাপারে আমরা কোন অভিযোগ পাই নি। তবে আহত মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে তথ্য গোপন করেছে। আর তাকে চবি মেডিকেল থেকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলেও সে একটি জেনেরেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাই বিষয়টি রহস্যজনক।”

তিনি আরো বলেন,“শাটল ট্রেনের দরজায় বসা নিষেধ। তারপরও শিক্ষার্থীরা যদি সচেতন না হয় তবে এমন ঘটনা বাড়তে থাকবে। আমাদের পরামর্শ কেউ যেন দরজায় বসে যাতায়াত না করে।”