সাত দফা দাবিতে আইইআরের অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, সেমিনার, শৌচাগারসহ সাত দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের জন্য ক্লাস রুম বর্জন করেছে ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রির্সাচ (আই ই আর) এর শিক্ষার্থীরা।  বুধবার সকাল ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় এইসব দাবিতে ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অনিদিষ্টিকালের জন্য ক্লাস বর্জন করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্স ল্যাব, কমনরুম, ডেবিটিং ক্লাস ও শিক্ষকদের পর্যাপ্ত কক্ষের অভাব।
বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীনে এই ইনস্টিটিউট চালু করে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে মূল ভবনটিতে পর্যাপ্ত ক্লাস রুম না থাকার কারণে বিশ^বিদ্যালয়ের কলেজে ক্লাস করতে হত শিক্ষার্থীদের। এর ফলে কলেজের সাথে ইনস্টিটিউট ক্লাস করাতে একাডেমিক কার্যক্রমসহ অন্যান্য দাবিগুলোতে বিলম্ব দেখা দেয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের পাশে নতুন  করে  আইন অনুষদ ভবন প্রতিষ্টার পর পুরাতন আইন অনুষদের ভবনটি চলতি বছরে ইনস্টিটিউটকে বরাদ্ধ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম, সেমিনার, শৌচাগার, ডিবেটিং ক্লাস এর সুবিধা পেত। কিন্তু দুদিন আগে দু তলা ভবনের নিচ তলা বিএনসিসিকে নতুন করে বরাদ্ধ দেয়া কর্তৃপক্ষ। ফলে আবারও নতুন করে একাডেমিক কার্যক্রম সহ অন্যান্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যার ফলে পুনরায় সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সিফাত হিমেল জানায়,“পাঁচ বছর ধরে নানা সমস্যা নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো চালিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। ল্যাব না থাকায়  বিজ্ঞান অনুষদে গিয়ে আমাদের অন্যত্র ল্যাব করতে হয়। বর্তমানে আমাদের সমস্যাগুলো রেখেই যে ভবনটির নীচ তলা বিএনসিসিকে বরাদ্দ দেয়া প্রশাসনের বিরূপ আচরণ।”

তিনি আরো বলেন,“কলেজের পাশে হওয়ায় কলেজ শিক্ষার্থীদের নানা অপমান সহ্য করতে হচ্ছে আমাদের। কলেজের ছাত্ররা ক্যান্টিনে বসে থাকে। আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। অথচ ক্যান্টিন আমাদের।”

এদিকে শিক্ষকদের ক্লাসরুম সংকট বিষয়ে ইনিস্টিটিউট এর বেশ কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“এমনিতেই শিক্ষকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অপরদিকে বিএনসিসিকে নতুন করে বরাদ্ধ দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদেরও সমস্যার পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও বিএনসিসিকে বরাদ্ধ দেওয়া হলে শিক্ষকদের গবেষণা কাজেও বিলম্বের সৃষ্টি হবে বলেও জানান তাঁরা।”

শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শিকার করে ইনস্টিটিউটের পরিচালক কিরণ চন্দ্র দেব বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজে ক্লাস করতো। পরে নতুন করে আইন অনুষদ হওয়ায় আমরা আইন অনুষদের পুরাতন ভবনটি আমাদের দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার উপাচার্য স্যার এর নির্দেশে ওই ভবনটির নীচ তলা বিএনসিসিকে বরাদ্দ দেয়া হয়। যার কারণে পুনরায় আবার শিক্ষার্থীরা নানান সমস্যায় পড়ছে। তবে এ বিষয়ে আমরা ভিসি সার এর সাথে আলোচনা করবো। যাতে এ বিষয়টি সমাধান করা যায়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. কামরুল হুদা বলেন,“আমরা এটি নিয়ে আলাপ আলোচনা করছি। এটা বড় কোনো সমস্যা বলে মনে হচ্ছে না। প্রো-ভিসি ম্যাম ও শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে। শিঘ্রহ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”